সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ রাবি শিক্ষার্থীরা, উদাসীন প্রশাসন!

এম এইচ মুন্না, রাবি প্রতিনিধি

শীত কমেছে তবে গরমের আগমনেই শুরু হয়েছে মশার উপদ্রব। বিভিন্ন জায়গায় অপরিষ্কার ড্রেন, ঝোপঝাড় ও পানি জমে থাকা জায়গা থেকেই মূলত মশার উপদ্রব হচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সকলেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও একই চিত্র দেখা যায়।

শুধুমাত্র রাতের বেলা নয়, দিনের বেলাও মশার কামড়ে কোথাও ঠিকমত বসা যাচ্ছেনা বলে অভিযোাগ করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের আবাসিক হল কক্ষ, একাডেমিক ভবনের কক্ষসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মশার এমন উপদ্রব দেখা যায়। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কর্মকান্ড।

 

তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, ক্যাম্পাস ও হলের আশে পাশে ঝোঁপঝাড়, জঙ্গল ও ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিস্কার না করায় মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। যার ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এমন অবস্থা কিছুদিন থাকলে দেখা যাবে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ। বিশেষ করে, মাইক্রোসেফালি, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে দ্রুত মশা নিধন না হলে মশাবাহিত রোগ প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টার ও আবাসিক হলগুলোর আশে পাশে ঝোপ-জঙ্গল ও ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি হয়েছে। বিকেল হতেই না হতে শুরু মশার পদচারণা। মশার কামড়ে ক্যাম্পাসের পুরাতন ফোকলোর চত্বর, ইবলিশ চত্বর, শহীদ মিনার চত্বর, পরিবহন মার্কেট, টিএসসিসি, সিনেট ভবন চত্বরসহ পুরো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা দায় হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় বিকেলে ক্লাস ও আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের রাত্রি যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতের বেলা কয়েল, মশা মারার স্প্রে ও মশারি কিছু দিয়েই মশার কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তারা। দুপুরে খাবারের পর বিশ্রামের জন্য বিছানায় গেলেও রাতের মতো মশারি টানাতে হয়। অতিরিক্ত মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।বিকেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এর জ্বালায় চেয়ার টেবিলে বসে পড়তে পারি না এবং বিছানায় ঘুমাতে পারি না। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। তাই দ্রুত মশা নিধনের ব্যপারে প্রশাসনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।বিশ্ববিদ্যালয়র রহমাতুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুইটি আক্তার বলেন, হটাৎ করে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় হলে পড়ালেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারির ভিতরে প্রবেশ করে পড়াশুনা করতে হয়। এতে পড়ার জন্য যথোপযুক্ত পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ঘুমের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে দ্রুত মশা নিধন মেডিসিন প্রয়োগের দাবি জানান।

মুন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনতারা তন্বী বলেন, মন্নুজান হল মেয়েদের সবচেয়ে বড় হল অথচ সবচেয়ে স্যাঁতস্যাঁতে হলও মন্নুজান। ফলে মশার উৎপাত সেখানে বেশিই। অফিসে কয়েকবার এব্যপারে জানিয়েও কোন ফল হয়নি।এদিকে নানা রোগের সম্ভাবনা এই সিজন পরিবর্তনের কারণে দেখা দিচ্ছে, ফলে বিকেল হতে না হতেই রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকতে হয় মশার ভয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. লায়লা আরজুমান বানু বলেন, “ক্যাম্পাসের মশা নিধনের বিষয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন,রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা বলে অতিদ্রুতই পদক্ষেপ নেবেন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ