শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশ্য দিবালোকে সাভার ও আশুলিয়ার ২ যুবক খুন যৌতুকের বলি আনজিলা আক্তার! জামালপুরে ভ্যান চালক শিশু সম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ জাল পাঁচ হরিণ শিকারী আটক করেছে বন বিভাগ জলবদ্ধতা নিরসনে দুই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অবৈধ নেটপাটা অপসারণ অপরাধ ডটকমের সাভার প্রতিনিধির মায়ের ইন্তেকাল বগুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জনপ্রিয়তার শীর্ষে আমিনুল ফরিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে সনাসের মানববন্ধন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাভারে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কারফিউ জারী করা হোক

মোহাম্মদ মন্‌জুরুল আলম চৌধুরী

সর্বমোট আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল হচ্ছে ১৮৫টি। মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৬,১৯,৪৯৫ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩,৬৫,১৪২ জন। এ পর্যন্ত সর্বমোট মারা গেছেন প্রায় লাখের কাছাকাছি অর্থাৎ ৯৭,২০০ জন। এর বিপরীতে বাংলাদেশের চিত্র হচ্ছে, মোট আক্রান্ত ৪২৪ জন, সুস্থ ৩৩ জন এবং মারা গেছে ২৭ জন।

এই বৈশ্বিক মহামহারীতে বাংলাদেশেও বিভিন্ন ধরণের তৎপরতা নেয়া হয়েছে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে জরুরি কিছু সেবা ছাড়া সব সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকার ছুটি ঘোষণা দিয়েছেন। এর পূর্বেই ২৫ মার্চ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে মাঠ পর্যায়ে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনীকে নামানো হয়েছে। খুব দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, মানুষ ঘরে থাকতে চাইছে না। সামাজিক দুরূত্ব তথা কমপক্ষে ৬ ফুট দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। হাঁচি কাশির শিষ্টাচার মানার কথা বলা হলেও তা অনেকেই মানতে চাইছে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন মুসল্লিদেরকে মসজিদে নামাজ আদায় না করে ঘরে নামাজ আদায়ের অনুরোধ জানালেও এবিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা নেই। তাই বাধ্য হয়ে গত ৬ এপ্রিল থেকে মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওয়াক্তের নামাজে ৫ জন এবং জুম’আ এর নামাজে ১০ জনের উপস্থিতি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তাছাড়া সন্ধ্যার ৬ টার পর থেকে ঔষধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট এবং শপিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন সামাজিক দূরত্ব না বলে শারীরিক দুরত্ব বলা উচিৎ। এতে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হবে। এবং এতে কিছু জন সচেতনতাও বাড়বে বলে তাঁদের বিশ্বাস। রাস্তায় বের হওয়া মানুষকে ঘরে ফেরাতে পুলিশ র‍্যাব এবং সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। যারা ঘর ছেড়ে বেরুচ্ছেন তাঁদের অজুহাতের শেষ নেই। তবে ইদানীং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে জ্যামিতিক হারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে এ ভাইরাসে বিপদজনকভাবে সংক্রমণ, আক্রান্ত এবং মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার জন্ম দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু সচেতন বা অসচেতন যেভাবেই হোক না কেন যারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে সেসব মানুষকে অবশ্যই ঘরে আটকিয়ে রাখতে হবে। প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও।

তবে এখানে একটা নির্মম, দুঃখজনক, অপ্রিয় সত্য হচ্ছে গরীব দুঃখী অসহায় খেঁটে খাওয়া মানুষদের দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা প্রদান করা। তবে আশার কথা হচ্ছে, সরকার পুলিশের মাধ্যমে এসব মানুষের মুখে আহার তুলে দেয়ার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পশাপাশি কিছু ব্যাক্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি তাঁদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যা কোনোভাবেই প্রতুল, পর্যাপ্ত বা যথেষ্ট বলা চলে না। আবার তা হচ্ছে বিচ্ছিনভাবে যেখানে সেখানে। মোটা দাগে বলা যায় এখানে সমন্বয়ের খুব বড় ঘাটতি রয়েছে। এখন শ্রেষ্ট সময় হচ্ছে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করে অসহায় দুঃখী মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া। এসব মানুষকে যদি খাদ্যের সন্ধানে ঘরের বাইরে বেরুতে হয় তাহলে কোনোভাবেই সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি হাঁচি কাশির সামাজিক শিষ্টাচার বন্ধ করা যাবেনা।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে অবিলম্বে কারফিউ দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। কেননা আমাদের দেশে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সংক্রমণ, আক্রান্ত এবং মৃত্যুর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেলে তা আমাদের সীমিত স্বাস্থ্য সুযোগ এবং অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা দিয়ে রোধ করার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, সামাল দেয়া খুব কষ্টকর, দুরূহ, দুঃসাধ্য, অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তা নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।

এদিকে গত ১০ এপ্রিল’২০ সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল’২০ পর্যন্ত আবার বাড়িয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের হট স্পট হিসেবে খ্যাত ঢাকার নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা, জেলায় লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপশি সন্ধ্যা ছয়টার পরে সবাইকে বাড়ীতে অবস্থান করতে আবারো কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ আইন না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এতদসত্ত্বেও মানুষকে কোনোভাবেই ঘরে আটকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। লকডাউনকৃত এলাকার মানুষও আইন মানতে চাইছে না। অহেতুক, বিনা কারণে অযথা ঘুরাঘুরি করার জন্য বা আড্ডা দেয়ার জন্য মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে পড়ছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, অকারণে, অহেতুক, অযথা, হাস্যকর বিভিন্ন অজুহাত এমন কি ডাক্তারের পুরানো প্রেসক্রিপশন নিয়েও নিছক আড্ডা দেয়ার জন্য মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আশঙ্কা এপ্রিলের বাদবাকী সময়ে জনসমাগম বন্ধ করা না গেলে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে যাতে এ রোগ সংক্রমণ রোধ করা দুঃসাধ্য হওয়ার পাশাপাশি তা দেশের জন্য ভয়ংকর এবং ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তাই এ মুহূর্তে দেশ ও জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কারফিউ দেয়ার কোনো বিকল্প আছে বলে আমাদের মনে হয় না। অতএব দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে দেশে কারফিউ জারী করা হোক।

মোহাম্মদ মন্‌জুরুল আলম চৌধুরী ।
email: m.monju@yahoo.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ