রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

মুগ্ধ করবে তিতাস নদীর রসুলপুর বিলের অপরূপ সৌন্দর্য
আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি / ৩৬৮ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

অটোরিক্সা-সিএনজি কিংবা মোটর সাইকেল চেপে রাস্তা ধরে সামনে এগোচ্ছেন দু’পাশে গ্রাম। যেতে যেতে চলে এলেন বিশাল জলরাশির বুকে। যেন মিঠা পানির এক সমুদ্র! কোথাও ভেসে আছে কচুরিপানা। কোথাও রাশি রাশি সাদা শাপলা।

কিছুক্ষণ পরপর চোখে পড়বে ভেসাল জাল দিয়ে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। কখনও পাশ দিয়ে ঢেউ তুলে চলে যেতে পারে মালবাহী ছোটবড় ট্রলার।

জলরাশির দিকে তাকালে পানির রঙ কখনও নীল, কখনও সাদা, কখনওবা কালো মনে হবে। শ্রাবণের আকাশের সঙ্গে রঙ বদলায় জল। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টি নামে, আবার রোদ ঝকঝক করে ওঠে। কালো মেঘের ছোটবড় ভেলা ও ঝিরিঝিরি বাতাস চেনা পরিবেশের বাইরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার জগতে।ব্রাহ্মণনাড়িয়া তিতাস নদীর রসুলপুর বিলের এই অপার সৌন্দর্য তুলনাহীন। এ যেন অপরূপ জলজ নিসর্গ।

মূহূর্তে বদলে যাওয়া চারপাশের প্রকৃতির রঙ মনে দোলা দেয়। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দু’চোখ ভরে উপভোগ না করলে বোঝা যায় না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার রসুলপুর ও কুঁড়িঘর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিল। এখানে এলেই ভ্রমণপ্রেমীরা হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে। দূরের কোনও গ্রামের প্রতিচ্ছায়ায় আটকে থাকে দৃষ্টি।জলরাশিতে ভাসতে ভাসতে চোখ মেলে তাকালে আকাশটা বিশাল লাগে।

মনে হতে পারে, এত বড় আকাশ কতদিন দেখা হয়নি!বিশাল নদীর বুক চিরে বানানো রাস্তায় বাতাসের তালে তালে হেটেঁ যাওয়ার সময় পানির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি ভাবলেও ভুল হবে না কোন অংশেই।যার কারণে প্রায় প্রতিদিন ই শতশত মানুষ এখন ভীড় করে এই সুন্দর্য্য উপভোগ করতে।

যদিও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে আষাঢ়-শ্রাবণ (মধ্য-জুন থেকে মধ্য-আগস্ট পর্যন্ত) দুই মাস বর্ষাকাল, কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে বর্ষা শুরু হয় জুন থেকে এবং অক্টোবর পর্যন্ত এর স্থায়িত্ব। এ সময়েই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাহিত বৃষ্টিপাত ঘটে, যা বাংলাদেশের বার্ষিক মোট বর্ষণের ৮০ শতাংশেরও বেশি এবং এর ফলে সারাদেশ জল-সম্পৃক্ত অবস্থায় থাকে।আর এতেই বৃদ্ধি পায় নদ-নদীর, খাল-বিলের।

তিতাস নদীর এই বিলটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে গত বছর (২০১৯)থেকে।যখন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এর গোকর্ণঘাটের সাথে নবীনগর রসুলপুর গ্রামের সংযোগ সেতু নির্মাণ হয়।দৃর্ষ্টিনন্দন সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের শুরুতে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সেতুটি চালু হওয়ায় নবীনগরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ কমে আসে। মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে জেলা শহর থেকে নবীনগর পৌঁছা সম্ভব হয়ে উঠেছে।

আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার ভিতরে গেলেই গোকর্ণঘাট থেকে শুরু হয় সেতু আর সেতু শেষেই দেখা মিলে তিতাস নদীর মোহনায় মিশে থাকা অপরূপ জলজ নিসর্গ রসুলপুর বিলের।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares