শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হবে আম: কৃষিমন্ত্রী খাবার না থাকলে আমাকে জানান, আমি বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিব: এমপি আনার অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের অভিযোগ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কমলগঞ্জে হিন্দু ছাত্র পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ময়মন‌সিং‌হের শম্ভুগ‌ঞ্জে প্রায় শতা‌ধিক দোকানে ধর্মঘট শেরপুরের শ্রীবরদীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার সাংসদ কন্যা ডরিন এর নেতৃত্বে রোজা রেখেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ করোনা সঙ্কটে আবারো অসহায় মানুষের পাশে সাংসদ কন্যা ডরিন সাভারে দুই নারী ধর্ষণের শিকার, আটক ২ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তিস্তায় ডুবে একজনের মৃত্যু

মোংলায় রাস্তার নামে জমি দখলের পায়তারা

শিকদার শরিফুল ইসলাম, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলায় পথ নেয়ার নাম করে বসতবাড়ীর জমি দখলের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে এলাকার চিহ্ণিত কিছু ভুমি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে । উপজেলার কেওড়াতলা সড়কের সন্ত্রাসী শাহাদৎ হাওলাদার ও সোলায়মান হাওলাদার সহ কিছু ভুমি দস্যু বেশ কিছু দিন ধরেই সহজ সরল আঃ বারীর জমিতে জোর পুর্বক সিমানা প্রাচীর দেয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্

থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যাক্তিরা এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার মিট-মিমাংশা করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছে। এ সকল ভুমি সন্ত্রাসীরা সরকারের বেশ কিছু খাস জমি দখল করে ভোগ করছে এবং থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের কোন সিদ্ধান্ত মানছেন না।

এনিয়ে থানায় কয়েকটি অভিযোগ ও সাধারন ডায়রী করেছে অসহায় পরিবারটি। জমি দখলের ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। থানায় সাধারন ডায়রী ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে পৌর শহরতলীর কেওড়াতলা এলাকায় মোঃ হাকিম সরকারের কাছ থেকে ২৬ শতক জমি ক্রয় করে আঃ বারী ও কবির হোসেন। জমি ক্রয়ের পরে আঃ বারী সেখানে ঘরবাড়ী তৈরী করে বসবাস করছে এবং কবির হোসেন’র জমি বিলান পরে থাকে। কিন্তু কবির হোসেন’র পরিবারের সদস্যরা সেখানে বসবাস না করে উল্টো বসবাসকৃত জমির মধ্যে পথের নাম করে দখলের পায়তারা করছে।

এলাকার এসকল কর্মকান্ডে মদদ দিচ্ছে অপর বাসিন্দা দন্ত চিকিৎসক নুর ইসলাম। এ সকল কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ ও সাধারন ডায়রী করেছেন মোংলা থানায়। ভ্যান চালক মজিবর খান ও মোঃ হোসাইন মোল্লা বলেন, একই এলাকার বাসিন্ধা ভুমি দস্যু দন্ত চিকিৎসক মোঃ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ এলাকাবাসীর। তিনি মজিবর খা’র মা আনোয়ারা বেগম নামের এক বৃদ্ধার কাছে জমি বিক্রির কথা বলে মিথ্যা কাগজ পত্র দিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় নুর ইসলাম।

শাহাদৎ ও সোলাইমানের কু-পরামর্শে তিনি ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধাকে জমি রেজিট্ট্রী না দিয়ে সেই জমি পুনরায় দখলের পায়তারা করছে নুর ইসলাম। শুধু বৃদ্ধা নয় এলাকায় আরো অনেকের কাছ থেকে এভাবে ধোকাবাজী করে এই ভুমি দস্যু গ্রুপটি অসহায় মানুষদের হয়রানী করে আসছে। এনিয়েও থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহু অভিযোগও দেয়া হয়েছে। নিরীহ আঃ বারির ছেলে মোঃ হোসাইন মোল্লার থানায় করা সাধারন ডায়েরীতে উল্লেখ করেন, কেওড়াতলা এলাকায় বসবাসকারী মৃত রুস্তম আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ শাহাদাৎ হাওলাদার (২৫) সোলায়মান হাওলাদার (৩০) আমাদের উত্তর পাশের সিমানায় বসবাস করে এবং অত্যান্ত উচ্ছংখল দাঙ্গাবাজ। দির্ঘদিন যাবৎ বসতবাড়ী সিমানা নিয়ে অহেতুক ভাবে বিরোধ সৃষ্টি করিয়া আসছে এবং বসত বাড়ীর মধ্যে জমি পাবে বলে দখল করার পায়তারা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিরা আপোষ সিমাংসা করার চেষ্টা করলেও তা তারা মানছেনা। নুর ইসলাম, শাহাদৎ ও সোলাইমানসহ কিছু চোর-বাটপার এবং ভুমি ও তথ্য সন্ত্রাসীদের নিয়ে পৌর এলাকা ও উপজেলাব্যাপী একটি ভূমিদস্যু বাহিনী তৈরী করেছেন তারা। তাদের ভুমি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অত্যাচারে অনেক রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে অসহায় ও নিরীহ মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। তাদের নির্যাতন থেকে বাচতে বেশ কয়েকবার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাকিদের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি শৃংখ্যলাভাবে বসবাস করার চেষ্টা করছি কিন্ত তাদের ক্ষমতার কাছে এসকল গন্যমান্য ব্যাক্তিরা অসহায়। পরবর্তিতে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়েছি।

গত সোমবার এ সকল ভুমি দস্যুরা অহেতুক আমাদের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এতে প্রতিবাদ করলে লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের মারপিট ও খুন জখম করার জন্য তাদের দলবল নিয়ে এগিয়ে আসে। এসময় আমাদের ডাক চিৎকারের স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পুনরায় বিভিন্ন মারফত আমাদের প্রান নাশের হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানী করছে এ ভৃমি সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে থানায় সাধারন ডায়রী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মোংলা থানার এ এস আই আবুল হোসেন বলেন, শাহাদৎ ও সোলাইমানের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা লিখিত সাধারন ডায়রী করা একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তবে এলাকার শান্তি শৃংখ্লা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে, তবে অন্যায় ভাবে কারো প্রতি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।

এ বিষয়ে দন্ত চিকিৎসক নুর ইসলাম জানায়, আনোয়ারা বেগমের কাছে কোন জমি বিক্রি করা হয়নী বরং তারা জমিতে জোর পুর্বক দখল করে আছে। এছাড়া আঃ বারির সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এনিয়ে থানায় অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত সোলাইমান হাওলাদার জানায়, মোংলা থানায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারন ডায়রী বা অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। আঃ বারি ও তাদের পরিবারের সদ্যরা বসবাসের জন্য যে ভবন তৈরী করেছে সেখানে পাশে কোন জায়গা রাখেনী এবং সে বভনের সকল ধরনের পানী ও ময়লা আমাদের সিমানায় গড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয় নিয়ে এলাকার কমিশনারসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিদের জানানো হয়েছে, উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স