মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

যোদ্ধা ইউএনও আলমগীর

মোঃ জিলহাজ বাবু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

রাত যত ভয়াল আর অন্ধকারময় হোক না কেন, সকালে সূর্যের দেখা মিলবেই। প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান সময়ের এ সঙ্কট এক দিন চলে যাবে, এতে সন্দেহ নেই।

এ সঙ্কটের সময়ে কে কী ভূমিকা পালন করেছে সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আলোচনায় থাকবে জনগন কী আচরণ করেছে ও কী শিক্ষা নিয়েছে সেটিও। আজ করোনার দাপটে বিপর্যস্ত গোটা পৃথিবী। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। আর এসব নির্দেশনা পালনে প্রথম থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হোসেন।

দিনরাত উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন তিনি। জনগণকে সচেতন করা, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের খোঁজ-খবর এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কর্মহীন দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ করছেন ইউএনও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহামারী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দিন-রাত। আজ সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত এ জেলায় ১৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৭ জন। করোনা ভাইরাসের এ আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে জেলার প্রতিটি মানুষকে। করোনাভাইরাস-সুনামির এই আকস্মিক অভিঘাত জনজীবনের উপর যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তার অনুমান করেই শিহরিত হচ্ছেন অনেকে।
তবে এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজকের এই নির্মম বাস্তবতায় নায়কোচিত বীরের ভূমিকায় থেকে সম্মুখ যুদ্ধে করোনাকে রুখে দেবার মানসে মোকাবেলা করে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে করোনা কালের সঙ্কট মোকাবেলায় তিনি আত্মনিয়োগ করেছেন। অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ব্যাপক প্রসংশিত হচ্ছে। তার বীরোচিত – ঝুঁকিপূর্ণ ত্যাগ মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের প্রতি দায়িত্ব সচেতন হয়ে দিনরাত ছুটে চলছেন এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। সময়ের এ সাহসী যোদ্ধা মানবতা-মানবিকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ইউএনও আলমগীর হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সকলের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

বর্তমানে করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক এজেডএম নুরুল হকের দিক-নির্দেশনা মোতাবেক প্রায় দুই মাস যাবৎ তিনি মাঠে অবস্থান করে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেখানেই করোনার পজেটিভ রোগীর খবর পাওয়া যায় সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন। আক্রান্তদের বাড়ি-ঘর লকডাউন করার পাশাপাশি তাদের খাবার সরবরাহসহ তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে মনোবল দৃঢ় ও শক্ত করতে বলছেন এবং স্বাস্থবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দিচ্ছেন। এ কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়ে এরই মধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এছাড়াও কর্মহীন অভাবী মানুষদের ত্রাণ ও খাবার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি মানবিক নজির সৃষ্টি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দেশের এমন দুর্যোগময় মুহূর্তে সত্যিই ইউএনও’র ভূমিকা প্রশংসনীয়। দেশের জন্য এ ধরনের নিবেদিতপ্রাণ ইউএনও সব উপজেলায় থাকলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো।

এ বিষয়ে ইউএনও আলমগীর বলেন, এ মহামারিতে মানবজাতিকে রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এ কারণে আমি আমার দায়িত্বটুকুই পালন করছি। অন্যরা এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলেই পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে । জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন একটি পরিবারের মতো হয়ে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন এ সংকট মোকাবেলা উপজেলা প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে আমরা করোনার ভয়কে জয় করতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ