শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

রাজবাড়ীতে লকডাউনে থেমে নেই ইট ভাটা!

মোঃ কবির হোসেন, রাজবাড়ী

সারাদেশ জুড়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এখন মহামারি আকার ধারন করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। বিদেশীরা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা সহ সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা জনসমাগম পরিহার করে বাড়ীতে থাকার জন্য বলা হয়েছে সকলকে।

এমনকি ঔষধের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারের দোকান বাদে সকল দোকান পাট ও গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে রাজবাড়ীতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সকল আইনের বাস্তবায়ন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন যায়গায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের এই দুর্যোগ ও মহামারি লগ্নে কাউকে বাড়ী থেকে বেড় না হওয়ার জন্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে প্রশাসন। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ব্যাপক আকার ধারন কল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে শুধু ঔষধের দোকান ব্যাতীত সকল দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সরকারি এ আইনের তোয়াক্কা না করে রাজবাড়ীতে চলছে ইট ভাটা গুলো। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সদর উপজেলা অধিকাংশ ইটের ভাটাই সক্রিয় এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী কোন পোষাক বা পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই ভাটা গুলোতে । এক সাথে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করছে । যেখানে “ সামাজিক নিরাপদ দূরুত্ব ” নেই । ভাটা গুলোতে যে সকল শ্রমিক কাজ করে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে সকালে কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যায়। ছোয়াছে করোনা ভাইরাস সে শ্রমিক বহনকারী হতে পারে আবার সে শ্রমিক অন্যান্য শ্রমিকের দেহ থেকে ছোয়াছে এই ভয়াবহ ভাইরাস নিয়ে তার পরিবারের সদস্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে শ্রমিকেরা জানায়, পেটের দায়ে আমরা কাজ করতে আসি । আমাদের মহজনের নিকট থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া থাকে । তিনি ডাকলে আমাদের আস্তেই হয়।

রাজবাড়ী পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের হাইওয়ে রাস্তার পাশে ও জেলা কারাগার সংলগ্ন দুইটি ইট ভাটায় চলছে কার্যক্রম ।
রাজবাড়ী ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান এর জামান ব্রিক্স ইন্ডাঃলিঃ এ গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা কাজ করছে গাদাগাদা পরিবেশে। দেশে এহেন ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের বিন্দুমাত্র আশঙ্কা দেখা যায়নি। কাজের শেষে সাবান ছাড়াই হাত ধুয়ে একসাথে ১০-১২ জন শ্রমিক খেতে বসেছে। প্রশ্ন করলে শ্রমিকেরা জানায় পেটের দায়ে আমরা কাজ করি দিন আনি দিন খাই , কাজ না করলে খাবার দেবে কে?

এ বিষয়ে রাজবাড়ী ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও জামান ব্রিক্স ইন্ডাঃলিঃ এর প্রোপাইটর আক্তারুজ্জামান জানান, দেশে লকডাউন চলছে কিন্তু কাজে তো কেউ থেমে নেই । গণ পরিবহন বন্ধ মানুষ অন্য উপায়ে চলছে। আমাদের ইট ভাটার সিজেন এটা । আর মাত্র অল্প কয়েকদিন আমাদের ভাটা চালু থাকবে এবং কিছুদিন পরে বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময় কাজ না করতে পারলে আমাদের অনেক ক্ষতির শিকার হতে হবে। তবে আমাদের শ্রমিকেরা মাস্ক ব্যাবহার করেই কাজ করছে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের এনডিসি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের এ মারাত্নক পরিস্থিতিতে এ সকল ইট ভাটা চালু রাখার কোন সুযোগ নেই । জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ