মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ীতে সাগর অটো রাইস মিলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

স্টাফ রিপোর্টার

দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস জনিত কারনে চলছে লকডাউন। সামাজিক দূরুত্ব আর বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ,হ্যান্ড সেনিটাইজার বতাবহার ,পিপিই এর ব্যাবহার সহ নিরাপদ থাকার জন্য বলা হলেও রাজবাড়ী বাগমারা এলাকায় সাগর অটো রাইস মিলের শ্রমিকরা মানছেন না স্বাস্থ্য বিধি।

নুন্যতম স্বাস্থ্য বিধি না মেনে মিল কারখানায় রাজবাড়ী জেলা বাইরের ২০-৫০ জন শ্রমিক একসাথে গাদাগাদি করে চালিয়ে যাচ্ছে কারখানার কার্যক্রম। কোন শ্রমিকের মুখে একটি মাস্কও পরতে দেখা যায়নি।

১৮ই মে (সোমবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা কেউ কেউ খালি গায়ে একসাথে গাদা গাদা হয়ে কাজ করছে। গায়ের ঘাম হাত দিয়ে মুছে আমার শুরু করেছে কার্যক্রম । সেখানে সামাকিক দুরুত্বের কোন বালাই নেই, নেই স্বাস্থ্য বিধি।

দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য কারখানার সামনে একটি বালতিতে রাখা শুধু পানি দিয়ে হাত ধুয়ে খাবার খেতে যাচ্ছে শ্রমিকেরা। অন্য যারা কাজ করছে রাইস মিলে বা কারখানায় তারা একই কক্ষে কাজ করছে স্বাস্থ্যবিধির নুন্যতম কিছু দেখা যায়নি সেখানে।

অন্যদিকে দেখা গেছে কিছু শ্রমিকেরা তীব্র গরমে একসাথে অনেকে বসে সিগারেট খাচ্ছে। গল্পগুজব করছে। তাদের কারো মাক্স দেখা যায়নি। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, অনেক পরিশ্রম করার কারনে মুখে মাক্স ব্যাবহার করা যায় না ।

মিল বা কারখানার পাশে থাকা একটি ডোবায় গোসল করে এই কারখানার সকল শ্রমিকেরা,আর থাকে কারখানার দেওয়া একটি রুমেই।

এদের কেউ যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে অন্যান্য শ্রমিকেরা সহ অন্যান্য স্টাফ আক্রান্ত হতে পারে প্রানঘাতি করোনা ভাইরাসে। চুয়াডাঙ্গা , সিলেট পাবনা সহ অন্যান্য জেলার এ শ্রমিকেরা গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে আক্রান্ত হতে পারে করোনা ভাইরাসে অথবা আক্রান্ত হতে পারে মিল কারখানার শ্রমিকেরা।

মিল কারখানায় প্রতিবেদককে দেখে হঠাত বিচলিত হয়ে যায় কারখানার কর্মকর্তারা। কারখানার ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চাইলে এদিক ওদিক পাশ কাটিয়ে কারখানার একাউন্টস অফিসার ফারুক হোসেন সিকদার অফিসে ডেকে নিয়ে যান অফিসে। অফিসে গিয়ে দেখা যায় কর্মকর্তারা পাশাপাশি নিরাপদ দূরুত্ব বজায় না রেখে অফিসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কারো কারো মুখে মাক্স না থাকলেও সকলেরই রয়েছে হ্যান্ড সেনিটাইজার। কিন্তু শ্রমিকদের জন্য নেই একটি সাবানও।

একাউন্টস অফিসার ফারুক হোসেন সিকদার আরো জানান, অতিরিক্ত পরিশ্রম করার কারনে কোন শ্রমিকই মাক্স সব সময় ব্যাবহার করতে পারে না। তবে তাদের সবাইকেই মাক্স ব্যাবহার করতে বলা হয়েছে।

কারখানার একাউন্টস অফিসার ফারুক হোসেন সিকদার এর সাথে কথা বলার সময়, অতর্কিতভাবে অফিসে প্রবেশ করেন সাগর রাইস মিলের মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন(সাগর)। অনুমতি ছাড়া কেন অফিসে ঢুকেছেন,কার সাথে কথা বলে এসেছেন , সাংবাদিক হয়েছেন তো কি হয়েছে ,আমার অনুমতি ছাড়া ছবি কেন তুলেছেন বলে উত্তেজিত অবস্থায় সাংবাদিকের সাথে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সাগর রাইস মিলের মালিক।

স্বাস্থবিধি মানা হচ্ছে কি না এ ব্যাপারে আপনা কারখানায় গেইট ম্যান এর অনুমতি নিয়ে এসেছি জানালে তিনি আবা্রো উত্তেজিত হয়ে বলেন এই গেইট ম্যান কে ডেকে আনো, আমার অনুমতি ছাড়া সাংবাদিককে আসতে দিলো কেন? ওর চাকুরী খাবো আজ।

নিয়ম অনুযায়ী যেকোন কারখানার জন্য প্রয়োজন একটি এইচ আর (হিউম্যান রিসোর্স ) যা এ মিল কারখানাতে দেখা যায়নি। স্বাস্থ বিধি নামানায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ বিভাগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ