সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে মেস ভাড়া মওকুফের দাবি শিক্ষার্থীদের

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহীতে মেস ভাড়া মওকুফ ও মেস মালিকদের সরকারি সহায়তার দাবী শিক্ষার্থীদের

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ আছ। সেপ্টেম্বর (পরিস্থিতিভেদে) পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহীতে রয়েছে দেশের স্বনামধন্য কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজসহ রয়েছে সরকারী বেসরকারী একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসন সংকট থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই থাকতে হয় মেস বা বাসা ভাড়া করে।আবার পড়ালেখা শেষ করে অনেকে চাকরীর পড়ালেখা করার জন্যেও অবস্থান করেন রাজশাহীতে। এই অবস্থায় রাজশাহীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

রাজশাহীতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন মেস ভাড়ার টাকা। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে-মেয়েদের অবস্থা একবারেই নাকাল। তারা বলছেন যদি এ কঠিন সময়ে একটি টাকাও খরচ না হয়,তাহলে পরিবারের জন্যে তা অনেক উপকার হবে।

রাজশাহীর মেসভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি গ্রপও খুলেছেন শিক্ষার্থীরা।গ্রুপে সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার। তাদের দাবি এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মেসভাড়া মওকুফ করা হোক।

একাধিক শিক্ষার্থী তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন এ গ্রুপে। তারা জানান, তাদের এ পরিস্থিতিতে মেস বা বাসা ভাড়া দেবার মতো অবস্থা নাই। ঘরে খাবার যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারের। পরিবারের আয় রোজগার বন্ধ। আমাদের যে অবস্থা, জীবন চলছে না।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষর্থী হুমাইরা আক্তার বলেন, “আমরা যারা বাইরে পড়াশোনা করি তারা অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের। অনেকেই আছে যারা টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়।দেশের এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ পরিবারই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। তাহলে এই অতিরিক্ত টাকা আমরা দিবো কিভাবে?”

এমন পরিস্থিতিতেও অনেক মেসমালিক ভাড়া চেয়ে শিক্ষার্থীদের ফোন দিচ্ছেন। রুহুল আমিন নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুক গ্রুপে স্ট্যাটাস লিখেন, আমরা আটজন ছাত্র একটা বাসা নিয়ে থাকি। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভাড়া কিছুদিন পরে দিব বলেছিলাম, কিন্তু বাড়িওয়ালা কিছুতেই মানতে রাজি না। যেকোনো মূল্যে ভাড়া দিতেই হবে। বাড়িওয়ালা ভাড়া না দিতে পারলে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলছে। আমরা তাও অর্ধেক ভাড়া দিয়েছিলাম। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এতো বুঝিয়েও কাজ হয়নি। আমরা ছাত্র মানুষ,টিউশনি আর কোচিং বন্ধ আছে। এক টাকাও ইনকাম নেই। কীভাবে ভাড়া টানা সম্ভব?
সাময়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারি ভাবে আমাদের জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করলে, সব মেস মালিক ও বাড়িওয়ালারা মানতে বাধ্য হত। আর আমরাও উপকৃত হতাম।

ফেসবুক গ্রুপে মো.আশিফ খান লিখেন,আমার মেস হেতেম খাঁতে। ফোন করে ভাড়া চাচ্ছে মেস মালিক। মাসের শুরুতে বলেছিলো ১-৪ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিলে কোন জরিমানা লাগবেনা আর পরে দিলে যতদিন পর দিবে ততো ১০ টাকা যুক্ত হবে। আবার খালা বিল চাচ্ছে ঈদ বোনাস সহ। এই মূহুর্তে আমি খুব চাপের মধ্যে আছি।

শিক্ষার্থীরা এও বলেন,আমরা এটাও বুঝতে পারছি যে মেস মালিক ও হোস্টেল কর্মকর্তাদের একটা বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের সকল মেসে ও হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ভাড়া মওকুফ করে মেস মালিক ও হোস্টেল কর্মকর্তাদের সরকারি সহায়তা করা হোক।

তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেও ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, লম্বা সময় সবাই বাসায় থাকায় সেভাবে ভাড়া দিতে চাচ্ছে না। তবে মওকুফের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হবে। অন্তত দুই পক্ষেরই সুবিধাজনক কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ