বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২ নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলী, ধানের শীষ হাতে সাইফুল আলম বরগুনায় গণপূর্ত বিভাগের জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ বগুড়ায় ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ঘোড়াঘাটে বালু বোঝাই ট্রাকে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২ সাভারে টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, ৫টি কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: অতিরিক্ত সচিব আশুলিয়ায় হাঁস পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী, কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা ময়মন‌সিংহ শেরপুর আঞ্চ‌লিক মহাসড়‌কের চারলেন এর কা‌জ শুরু

রাবিতে হিরোইনের প্রাথমিক উপাদান পপি ফুলের চাষ!

মেহেদী হাসান মুন্না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পপি বা আফিম ফুল। পপি শব্দটি মানুষের নাম হিসেবে স্বাভাবিক মনে হলেও এই ফুলের নাম শুনলেই অনেকে আতকে উঠেন।  এর ইরেজি নাম ওপিয়াম পপি (Opium poppy)। এই ফুল থেকেই  দামি মাদক ‘আফিম তৈরি হয়। নিরীহ দর্শনের এই ফুলটি একটি মাদকদ্রব্যের গাছ। তাই দেশের মধ্যে এর চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাহারি ফুলের আড়ালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পপির চাষ হচ্ছে।

এই ফুল থেকেই আফিম তৈরি হয় আর সেই আফিম থেকে হিরোইন ও মরফিন পাওয়া যায়। আর তাই এই ফুলের চাষ বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের আড়ালে বাগানেই চাষ করা হচ্ছে এই পপি ফুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও বাসভবনে ৪ প্রজাতির পপি ফুল চাষ লক্ষ্য করা যায় এর মধ্যে সাদা, লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের। ফল যখন পরিপক্ব হয় তখন ব্লেড দিয়ে ফলের গায়ে গভীর করে আঁচড় দেওয়া হয়।

ফলে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর এর ফল থেকে কষ বের হয় এবং চাষীরা তা সংগ্রহ করে, আর এই কষ হলো আফিমের কাঁচামাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামন হল, সৈয়দ আমীর আলী, মতিহার, মাদারবক্স, শহীদজিয়াউর রহমান, শহীদ শামসুজ্জোহা, শেরে-বাংলা হল-প্রাধ্যক্ষের বাস ভবন ও মমতাজউদ্দীন কলাভবন শুধু নয় উপাচার্যের বাসভবনেও রয়েছে নিষিদ্ধ এই পপি ফুলের গাছ। কিছু সংখ্যক ‘পপি’গাছ দেখে যে কারও মনে হতে পারে, কৌশলে অন্য ফুল গাছের আড়ালে সেগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে তবে কোনটি আবার প্রকাশ্যেই রয়েছে।এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলের সামনে ও অভ্যন্তরে রয়েছে অসংখ্য পপি ফুলের গাছ।

হলের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো ফুল গাছের আড়ালেই দেখা মিলবে অসংখ্য এই গাছ। এছাড়াও হলের অভ্যন্তরে প্রবেশের ডান ও বাম পাশেও বাহারি ফুলের আড়ালে রয়েছে সারিবদ্ধ এই গাছ। সৈয়দ আমীর আলী হলের অভ্যন্তরেও রয়েছে নিষিদ্ধ এই ফুলের অসংখ্য গাছ। হলটির বাগানে অন্যান্য ফুল গাছের সাথে মিশে আছে এগুলো। এদিকে মতিহার হলে প্রবেশর বাম পাশের বাগানে বাহারী সব ফুলের মাঝে চাষ করা হচ্ছে পপি ফুল।

এছাড়াও পপি ফুলের গাছ রয়েছে জিয়া ও জোহা হলের ১ম ব্লক, মাদারবক্স হলের ৩য় ব্লক, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এবং শেরে-বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষের বাসভবনের ফুলের বাগানেও পাওয়া গেছে পপি ফুলের অসংখ্য গাছ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে যে কোন প্রজাতির পপি ফুল গাছ উৎপাদন, বাজারজাত ও চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তবুও কেন বাগানে পপিফুল চাষ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিদের সেবিষয়ে সেই প্রশ্ন করা হলে সবাই বিষয়টি এড়িয়ে যান তবে জোহা হলে মালি পশাল বলেন, “আমরা জানি এটি পপি ফুল কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে রোপণ করা হয়নি। ফুলটি অনেক সুন্দর এর জন্য রোপণ করা হয়েছে।”

 

পপি ফুলের ছবিসহ কয়েকটি ফুল ও ফল দেখালে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুঞ্জুর হোসেন বলেন, এটি অবশ্যই নিষিদ্ধ পপি ফুল যেটি বাংলাদেশে চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্যাম্পাসে পপি ফুল গাছ আছে তা আমি আগে জানতাম না। তবে এই বিষয়গুলো প্রশাসনের আরো সচেতন হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ ড.রওশন জাহিদ বলেন,“আমরা ফুলটি বহুবার পর্যবেক্ষণ করেছি তবে তা পপি, আমি জানতাম না। “উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ গত শুক্রবার পপি ফুলের বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথেই হলের পপি ফুলগাছগুলো নির্মূল করেন।”

 

এদিকে সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আমিনুল ইসলামকে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ পার্থ বিপ্লব রায়ের বাসভবনে (আবাসিক) পপি ফুলগাছ থাকলেও তিনি অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে আইন বিভাগের অধ্যাপকড.বিশ্বজিৎ চন্দ্র বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ একটি নিরাপদ স্থান। এখানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্মরত কর্মচারীরা অসৎ উদ্দেশ্যেও পপি ফুল গাছ চাষ করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না এবং বিষয়টি অজানা থাকায় আমি মন্তব্য করতে পারছি না। ঘটনাটি সত্য হয়ে থাকলে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “রাবিতে হিরোইনের প্রাথমিক উপাদান পপি ফুলের চাষ!”

  1. Ema says:

    Momtaj uddin kola vobone er samnew ase

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ