বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৫ অপরাহ্ন

রাস্তায় মাঝে দেওয়াল তুলে রাস্থা দখল, বিপাকে ৩শ পরিবার

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছায় এক ব্যক্তির অত্যাচারে স্বরুপদাহ ইউনিয়নের গদাধারপুর গ্রামের ৩’শ পরিবার জিম্মি হয়ে পড়েছে। চলাচলের একমাত্র পথ জোরপূর্বক বন্ধ করায় কৃষি ফসলি জমির পন্য আনানেয়া করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকরা। ওই ব্যক্তির নাম মতিয়ার রহমান। এলকায় তিনি ভূমিদস্যু বলে পরিচিত। তার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এলাকাবাসি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকার কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, গদাধারপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ সৃষ্টি করে জনসাধারণের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি করছেন। সরকারি খাস জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। একপ্রকার লাঠির জোর আর দম্ভোক্তি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত অপরাধ করছেন। আইনকে তোয়াক্কাও করছেন না বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

এলাকার একাধিক ভূক্তভোগীরা জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ৩টি গ্রামের মানুষের ২’শ বিঘা ফসলি জমিতে যাতায়াতের জন্য ১৯৫৬ সালে ফকির চাদ মন্ডল ও ভোলাই মন্ডল জে এল নং ৩৯, ও ১২৫ নং খতিয়ানের ২২৮ ও ২২৯ নং দাগের ১০ শতক জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়ের মহতি কাজের কারনে স্থানীয় জনসাধারণ সেই রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ পায়। বিশেষ করে গদাধারপুর, হিজলী ও মাশিলা গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক কৃষক ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছে। জমির ফসল আনা-নেয়াসহ, গরুর গাড়ী, ভ্যান ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু ফকির চাদ মন্ডল ও ভোলাই মন্ডল মারা যাবার পরে ওয়ারেশ সূত্রে জমির মালিকগণও ওই জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতে দেন। কিন্তু ওয়ারেশ আলফাজ উদ্দিন তার মালিকানা জমির ৬০ শতকের মধ্যে ৫০ শতক বিক্রি করে দেন। বাকি ১০ শতক জমি রাস্তার জন্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। কিন্তু এলাকার ভূমিদস্যু বলে পরিচিতি মতিয়ার রহমানের নজরে পড়ে ওই জমি। জনসাধারণের ব্যবহারিত রাস্তার জমিটি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জনসাধারণের কথা চিন্তা করে এলাকার আলফাজ উদ্দিন চৌগাছা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলাও করেছেন। মামলা নং ১৬/২০১৩। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় মতিয়ার রহমান জোর পূর্বক রাস্তার মাঝ দিয়ে দেওয়াল তুলে দিয়েছেন। রাস্তাকে দুভাগে বিভক্ত করেছেন প্রাচীর দিয়ে। ফলে রাস্তাটিতে চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছু দিনের মধ্যেই ইরি-বোরো ফসল ঘরে উঠবে। এমতাবস্থায় রাস্তার মাঝ বরাবর দখল করার কারনে মাঠের ফসল নিয়ে রাস্তা দিয়ে যেতে পারবেনা কৃষকরা। ফলে তাদের মাঠের ফসল ঘরে তুলতে দুইগুন টাকা বাড়তি খরচ হবে। রাস্তাটি দখলমুক্ত না হলে গ্রামের ২’শ বিঘা জমির ধান কৃষকদের বাড়ীতে আনা সম্ভব না।

রাস্তা দখলের বিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মতিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে জারী হননি। মামলা চলা অবস্থায় কেনো রাস্তা দখল করলেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি কোন জবাব না দিয়ে চুপ থাকেন। বারবার চেষ্টা করেও তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি। একপর্যায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট থেকে চলে যান। এমতাবস্থায় ভূক্তভোগীরা দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স