বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

লামায় ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন তারা

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রবাসীর স্ত্রীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেল দুই যুবক! ছবি: মো. শাহ আলম ও তোফাজ্জল হোসেন

বান্দরবানের লামায় ভূমি বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেল দুই যুবক। সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিচক্ষণতা ও নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে মূল ঘটনাটি। এমনটি জানালেন লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। অবশেষে মূল ইয়াবা কারবারী ও সহযোগী দুজনকে আসামি করে আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে লামা থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, বাড়িতে ইয়াবা আছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাত ১০টার সময়ে সেনাবাহিনীর লামা সাব জোনের একটি টিম উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের অংহ্লা পাড়া এলাকায় প্রবাসী আব্দুল মন্নান এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির বারান্দার পূর্ব কোণের ছাদের উপর থেকে ১০৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় বাড়িতে আব্দুল মন্নানেরর স্ত্রী মিনু আক্তার (৪৫) ও তার মেয়ে ছিল।। ইয়াবাসহ মিনু আক্তারকে লামা থানায় নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনাটি নাটকীয় ও সাজানো বলে এমন তথ্য আসে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে । পুনরায় ঘটনাটি যাচাই বাছাইয়ে জন্য মাঠে নামে গোয়েন্দা সংস্থার টিম। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।

এলাকাবাসী জানান, প্রবাসী পরিবারের সাথে ভূমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী মৃত নজির আহাম্মদের ছেলে মো. শাহ আলমের সাথে অসংখ্য মামলা ও বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি মিনু আক্তারের একটি মামলায় জেল খাটে মো. শাহ আলম। সেই ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর নাটক করা হয়। পরে এই ঘটনার সাথে জড়িত ও সহযোগিতার করার অভিযোগে তোফাজ্জল হোসেন (৩৮) নামে আরেক যুবককে আটক করা হয়। সে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
এদিগে তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের দাবী সে এই ঘটনার সহযোগি না। এই মামলার আসামি শাহ আলমের সাথে তোফাজ্জলের গাছের ব্যবসা ও টাকার লেনদেন আছে। সে সুভাদে তোফাজ্জল প্রায় সময় সেখানে যেত। এটাকে পুঁজি করে তোফাজ্জলকে ফাঁসানো হয়েছে। তোফাজ্জল নিদ্দোস।

মিনু আক্তারের দেবর হাজী আব্দুর রহমান বলেন, আমার ভাবী গত বছর হজ্ব করে এসেছেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং ওনার অনেক বয়স হয়েছে। আমাদের পরিবারের সম্মানহানী করতে এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে শাহ আলম। সেনাবাহিনী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দোষীদের কঠোর বিচার কামনা করেন।

রুপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা বলেন, মিনু আক্তারের পরিবারটি সম্ভ্রান্ত একটি পরিবার। তার স্বামী ৩০ বছর যাবৎ সৌদি আরব থাকে। তাদের যথেষ্ট আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে। এমন নেক্কারজনক ঘটনা তাদের দ্বারা সংগঠিত হতে পারে না। যারা নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছে তাদের সঠিক বিচার দাবী করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ