শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

লামায় ভুট্টা চাষ হতে পারে তামাকের বিকল্প

শাহরাজ, লামা(বান্দরবান) থেকে

যে মূহুর্তে দিগন্তছোঁয়া মাঠ জুড়ে তামাক পাতার ফলন, ঠিক একই সময় ভুট্টা চাষে আগ্রহী কৃষক নুরুজ্জামান। ৪০ শতাংশ জমিতে সুপার সাইন ২৭৬০ জাতের ভুট্টা চাষ করেছে এই কৃষক। ক্ষেতে গাছের পরিমান প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে নিরেট ১০ হাজার গাছে গড়ে ত্রিশ হাজার ভুট্টার মোচা হবে। প্রতিটি মোচার বাজার মূল্য পাঁচ টাকা হারে বিক্রি হবে এক লাখ পঁঞ্চাশ হাজার টাকা। চার মাসে ফসল ঘরে আসা পর্যন্ত ৪০ শতাংশ জমিতে খরচ হবে ৬০ হাজার টাকা।

কৃষক নুরুজ্জামান জানান, ৪০ শতাংশ জমিতে উৎপাদিত তামাক খুব ভালো মানের হলে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। ৪ মাস পর খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের সর্বোচ্চ ১০-১৫ হাজার টাকা থাকে। এ ক্ষেত্রে ফলনে অনেক ঝুঁকি ও শ্রম রয়েছে। অপরদিকে পরিবেশ বান্ধব ভুট্টা চাষে একটু সচেতন হলে, ঝুঁকি কিংবা বেশি শ্রম নেই। আর্থিকভাবে তিনগুণ বেশি লাভবান হওয়া যায়। এছাড়াও ভুট্টা গাছের পাতা-আগা, এসব গোখাদ্য হিসেবে ব্যাবহার হয়। অপরদিকে গাছের মূল অংশটি জমিনে শুকিয়ে যাওয়ার পর সেখানে লতা জাতীয় অন্য ফসল উৎপাদনের চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, পরিবেশ বান্ধব ফলন ভুট্টার বাজার চাহিদা রয়েছে অনেক। প্রনোদনার অভাবে প্রান্তিক কৃষকরা এই ফসলটি চাষে তেমন আগ্রহী নয়। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষি বিভাগ ভুট্টা চাষে কৃষকদেরকে নানাভাবে অনুপ্রানিত করছে। তবে এর বাজার নিশ্চয়তা থাকলেও তামাকের ন্যায় আগাম বিনিয়োগ না পাওয়ায় কৃষক তেমন আগ্রহী হচ্ছেন না।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই ফসল থেকে হেক্টরপ্রতি ১০-১০.৫ টন (খোসা ছাড়ানো কচি মোচা) এবং প্রায় ২৫টন/হেক্টর সবুজ গো-খাদ্য পাওয়া যায়।

এছাড়াও ভুট্টার বহুমুখি চাহিদা রয়েছে বলে জানাযায়। ভুট্টা গাছ থেকে গো খাদ্যর বিশাল চাহিদা পুরণ হয়। সাম্প্রতিকালে দেশে পোল্ট্রি শিল্পে এর বাজিমাত অনেকখানি।

পোল্ট্রির খাদ্যের মূল উপাদান হচ্ছে ভুট্টা। এছাড়া গ্রাম্য হাট-বাজারে এই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পন্যটি সিদ্ধ করে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। সব বয়সের মানুষের কাছে সিদ্ধ ভুট্টা খাওয়া যেন গ্রামীণ জনপদে এক ধরণের ঐতিহ্য। এছাড়া অনেকে এই পন্যের পুষ্টিমান বিবেচনায় ভুট্টার আটা দিয়ে নাস্তা তৈরি করে। সুতরাং ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একই সাথে সার্বিক বিবেচনায় কৃষি পরিবেশ অনুকুল থাকায় পার্বত্য উর্বর মাটিতে ভুট্টা চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক চাষিদের আর্থিক উন্নতির প্রচুর সম্ভাবনাও আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ