বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

লামায় ১১৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

এম.বশিরুল আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় প্রায় ১১৭ সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে পারছে না শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার মানুষ। এতে শিক্ষার্থীরাসহ গ্রামের মানুষগুলি জানতে পারছে না ভাষা দিবসের সঠিক তাৎপর্য এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

 

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার ১২৭টির মধ্যে ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এখনো স্থাপন করা হয়নি শহীদ মিনার। এ কারণে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সকল বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের যথাযথভাবে সুযোগ পাচ্ছে না। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী তুলেন শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা।

কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুনারবিল মডেল, রাজবাড়ি, লামামুখ, ছাগল খাইয়া লাইনঝিরি, কলিঙ্গাবিল পাড়া ও সাবেক বিলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে ১১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না বানিয়ে শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহফিল করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তা-ও করা হয় না।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩টি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক ৮৫টি, রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪টি, কিন্ডারগার্টেন ৫টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ১৪টি। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয় ও মাদরাসা মিলিয়ে আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে অন্তত ১৯টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১৩ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়ার ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিদিন।

 

অপর দিকে উপজেলায় দুই লাখের কাছাকাছি জনগণের বসবাস। আগের তুলনায় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধন হলেও পিছিয়ে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের ক্ষেত্রে।

 

জানা গেছে, লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী মাতামুহুরী কলেজ, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজে, চাম্বি স্কুল এন্ড কলেজ, ডলুছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মেরাখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং রিপুজিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে এখনো নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। ফলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ভাষা দিবসের মত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

নুনারবিল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ার বলেন, সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা যায়নি। তাই একুশে ফেব্রুয়ারী এলে লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের বা ইউনিয়ন সদরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র কাছে স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি শহীদ মিনার তৈরি করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মাহাবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সাথে অনেক আগে আলাপ করেছিলাম। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কান্তি চৌধুরী বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় না।

এদিকে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষার অর্জন-ইতিহাস উপস্থাপন করার জন্য অবশ্যই শহীদ মিনার জরুরি। পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ