সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

শরণখোলায় কোরবানীর পশু নিয়ে বিপাকে খামারীরা
মাসুম বিল্লাহ্ শরণখোলা, বাগেরহাট / ৫২ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১

মহামারী করোনা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে চলমান লকডাউনে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সকল হাটবাজার বন্ধ থাকায় আসন্ন কোরবানীর ঈদের পশু বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। এছাড়া কয়েক লাখ টাকায় পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার একাধিক ইজারাদার। উপজেলা জুড়ে করোনা প্রকোপ বৃদ্ধির কারনে চলতি বছর উপজেলায় পশুর হাট না বসার কারনে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদারা। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত সময়ের জন্য হলেও পশুর হাট বসানোর দাবি উঠেছে।

উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজারের পশুর হাটটি শরনখোলা উপজেলার মধ্যে অন্যতম। সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে এখানে। কোরবানির আগে থেকেই জমে ওঠে এই হাট। প্রতি হাটে ৬০০ থেকে ৭০০ গরু-ছাগল কেনাবেচা হয় এখানে কিন্তু করোনার কারনে ওই হাট সহ উপজেলার সকল পশুর হাট বন্ধ রয়েছে। যার কারনে হতাশ পড়েছেন ব্যবসায়ী সহ ইজারাদার সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির আগ মুহুর্তে পশু বেচাকেনার মাধ্যমে শরণখোলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার কোরবানীর পশু সরবারহ করা হয়। এ বছর কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউনের কারনে হতাশা গ্রস্থ হয়ে পড়েছেন তারা।

উপজেলার খেজুরবাড়িয়া এলাকার এক খামারী বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি কোরবানির পশু সরবারহ করার উদ্যেশ্যে গরু পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার খামারে বিক্রির মতো ৯টি গরু আছে। হাট না বসার কারনে তিনি পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

আমড়াগাছিয়া পশুর হাটের ইজারাদার গ্রুপের সদস্য মো. রুবেল মিয়া ও মো. মাসুদ মুন্সী বলেন, প্রায় ৫০ লাখ টাকায় তারা আমড়াগাছিয়া বাজারের হাট এ বছর তারা ইজারা নিয়েছেন। কোরবানির হাটই তাদের আয়ের মুল উৎস। কিন্তু ইজারা নেয়ার শুরুই থেকে লকডাউন থাকায় তারা চরম লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু হাট খুলে না দিলে আমাদের পথে বসতে হবে। তাই আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাট খুলে দেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, ছোটবড় মিলিয়ে শরনখোলায় শতাধিক ক্ষুদ্র খামার রয়েছে। ওই সব খামারিরা কোরবানির হাটে তাদের পশুগুলো বিক্রি করার চিন্তায় আছেন। কিন্তু হাট চালু না হলে তারা লোকসানের মুখে পড়বে।

শরণখোলা উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, করোনা পরিস্থিতি বৃদ্ধির কারনে পশুরহাটগুলো বন্ধ রয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে হাটগুলো সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares