শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হবে আম: কৃষিমন্ত্রী খাবার না থাকলে আমাকে জানান, আমি বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিব: এমপি আনার অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের অভিযোগ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কমলগঞ্জে হিন্দু ছাত্র পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ময়মন‌সিং‌হের শম্ভুগ‌ঞ্জে প্রায় শতা‌ধিক দোকানে ধর্মঘট শেরপুরের শ্রীবরদীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার সাংসদ কন্যা ডরিন এর নেতৃত্বে রোজা রেখেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ করোনা সঙ্কটে আবারো অসহায় মানুষের পাশে সাংসদ কন্যা ডরিন সাভারে দুই নারী ধর্ষণের শিকার, আটক ২ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তিস্তায় ডুবে একজনের মৃত্যু

শীতলক্ষ্যায় সলিল সমাধি!

মোঃ রাশেদুল হক, এডভোকেট

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ এর শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ৩৫ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বলা যায় হত্যাকান্ড। প্রতিদিনের মতো সেদিনও নারায়ণগঞ্জ থেকে ৩০ মিনিট দূরত্বের নৌপথে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মুন্সিগঞ্জ যাচ্ছিল ছোট একটি লঞ্চ। পথিমধ্যে লাইটার জাহাজ এস কে এল-৩ এর ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায় এবং সলিল সমাধি হয় ৩৫ টি তাজা প্রাণ ! এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী কে?

একের পর এক নৌ দূর্ঘটনায় নদী পথ হয়ে উঠছে যেন এক মৃত্যুপুরী। প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি এদেশের নৌ পথকে করেছে মরণ ফাঁদ।ঠিক যে জায়গায় দূর্ঘটনা ঘটেছে সেই জায়গাটি হলো নারায়ণগঞ্জ এর মদনগঞ্জ- সৈয়দপুর নির্মানাধীণ সেতুর দুই পিলারের মধ্যবর্তী জায়গায়। এই নৌ পথ দিয়েই প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে অদূরবর্তী মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরে যাত্রীবাহী ছোট ছোট লঞ্চ চলাচল করে। এই পথ নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর শিল্প কারখানার পণ্য পরিবহনের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ । তাই প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী লাইটার,কার্গো জাহাজ, বাল্কহেড, ট্রলার চলাচল করে।

এই দূর্ঘটনার জন্য ঘটনাস্থলে নির্মানাধীণ সেতু কর্তৃপক্ষও তার দায় এড়াতে পারে না। শীতলক্ষ্যার উপর নির্মানাধীন এই সেতুর ছবিগুলো দেখলেই সেতু নির্মাণে কর্তৃপক্ষের চরম অদক্ষতার পরিচয় মেলে। সেতুর দুই পিলারের মধ্যবর্তী জায়গা এতটাই সংকীর্ণ যে,এখানে দূর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী। একমুখী নৌযান চলাচলের জন্য যা যথেষ্ট নয়,সেখানে দ্বিমুখী নৌ চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ! এই পিলারের মাঝখান দিয়ে এক সাথে একাধিক নৌযান চলাচল করতে গেলেই মহা বিপত্তি! সম্প্রতি লঞ্চ দূর্ঘটনায় প্রাণহানি এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

গত মাসে নারায়নগঞ্জ নদী বন্দর থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে সেতুর নীচে পিলারগুলোর সংকীর্ণ জায়গায় আমিও ভরকে গিয়েছিলাম। একাধিক নৌ যান স্থানটি অতিক্রম করার সময় ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। নির্মানাধীন সেতুর পরিকল্পনায় সেতু বিভাগ চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। স্বল্প প্রশস্ত নদীতে চারটি পিলার স্থাপন করে প্রতিনিয়ত নৌ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থানটি এখন মরণ ফাঁদ। সেতুর দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের নিদারুণ অসচেতনতাও চোখে পড়ার মতো।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ,১৯৭৬ অনুসারে লঞ্চের ফিটনেস চেক, নৌ-ট্রাফিক ব্যবস্থা, নৌ-বিমাসহ যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৌ-পুলিশ ও পরিদর্শকের কাজ। তাদের কাজে গাফলতির জন্য শাস্তির কথাও বলা আছে আইনটিতে, বাস্তবে যদিও আইনটির প্রয়োগ নজরে পড়ে না।কিন্তু দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কেবল নৌ চলাচলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে।

নৌ চলাচলে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ৮ দফা নির্দেশনা জারী করেছেন। এতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ দন্ড বিধি-১৮৬০ এবং অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর বিধানমতে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।ইতিমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না,প্রকৃত দায়ীরা চিন্থিত হবে কি না, তা নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ সন্দিহান। আর কত প্রাণ গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের গগন বিদারী আর্তনাদ জাতির বিবেককে নাড়া দিবে??

মোঃ রাশেদুল হক, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স