সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১১ অপরাহ্ন

সরকারি ত্রাণ নিয়ে জালিয়াতি, ইউপি সদস্য নিজেই ত্রাণ গ্রহীতা

নিরব আহমদ টাইফুন, তাহিরপুর প্রতিনিধি

বর্তমান করোনা ভাইরাসের সংকট মুহূর্তে সরকার অসহায় দিনমজুর, অসচ্ছল পরিবারে ত্রাণ সহায়তার হাত বাড়ালেও দেশের বিভিন্ন এলাকার চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ ত্রাণ সহায়তা ও নামের তালিকায় একের পর এক অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। অসহায় পরিবারের পরিবর্তে ত্রাণের নামের তালিকায় ইউপি সদস্য নিজে, মা, শাশুড়ী, শ্যালক, মেয়ের জামাইয়ের নাম যুক্ত করেছেন। সরকারি ত্রাণের তালিকা স্বচ্ছভাবে করার দায়িত্ব দেওয়া হয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের। কিন্তু এইসব ত্রাণের নামের তালিকায় উঠে এসেছে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮নং ইউপি সদস্য আব্দুল হক এর অনিয়ম দূর্নীতির চিত্র।

এদিকে সরকারী ত্রাণ সহায়তার অগ্রাধিকার তালিকায় ইউপি সদস্য ও তার সকল আত্মীয়স্বজনের নাম প্রকাশিত হওয়ার পরপরই এলাকায় তুলপাড় শুরু হয়েছে।

এই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড জাঙ্গাল হাটি, লামাশ্রম, রাজারগাঁও, ডালারপাড়, লাউড়েরগড় গ্রামসমূহ নিয়ে গঠিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের তালিকা সূত্রে জানা যায়, সরকারি ত্রাণ সহায়তার জন্য আব্দুল হকের সীল সাক্ষরসহ নামের তালিকায় ৪৮টি নাম রয়েছে এর মধ্যে মহিলা মেম্বার মনোয়ারা বেগমের জন্য বরাদ্দ ১০টি নাম। অবশিষ্ট ২৮টি নামের মধ্যে ১০জন তার নিজ পরিবারের।

 

 

 

 

 

 

 

 

তালিকায় উল্লেখিত ক্রমিক নং(৪) জরিনা খাতুন স্বামী মৃত সাদত আলী (তিনি মেম্বারের মা) ক্রমিক নং (৩৫) আঃ হক পিতা সাদত আলী (মেম্বারের নিজের নাম মোবাইল নম্বরসহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন)

একই পরিবারের ৩জনের নাম ক্রমিক নং ২৯ তার শাশুড়ী ক্রমিক নং ৩০ শ্যালিকা, ক্রমিক নং ২৪ শ্যালক ও ৩৭ নম্বর ক্রমিকে ওয়ার্ড নং ৯ এর বাসিন্দা অপর এক শ্যালকের স্ত্রীর নাম ও ক্রমিক নং ১৬ মেম্বারের মেয়ের জামাই ৯নং ওয়ার্ড বাসিন্দা। ক্রমিক নং ৩১ আপন মামা শশুর। এছাড়াও কিছু নামের সাথে পিতা কিংবা স্বামীর নামের মিল নেই।

হতদরিদ্র-অসহায় ও কর্মহীন লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে আছি, ভাবছিলাম মেম্বার সাব আমাদেরকে ত্রাণ দিবেন। কিন্তু না, নিজেই নিজের নাম ও আত্মীয়স্বজনের নাম দিয়ে ত্রাণ গ্রহীতা হলেন।
যেখানে অসহায় লোকজন কর্মহীন হয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে সেখানে এই ইউপি সদস্য তাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সরকারী ত্রাণ সহায়তা আত্মসাৎ করার ফন্দি করে, যার ফলে নিজ পরিবারের সদস্যদের সরকারি ত্রাণের নামের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর পূর্বেও ভিজিএফ, ঘরসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেছে বলেন অভিযোগ রয়েছেন বঞ্চিত জনসাধারণ।

তালিকায় প্রকাশের পর সাংবাদিক আলম সাব্বির জানান, লাউড়েরগড় বাজারে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ফার্মেসীতে ঔষধ নিতে গিয়ে আব্দুল হক মেম্বারকে পেয়ে বলি ত্রাণের তালিকায় আপনার নিজের নাম বাদ দিয়ে অসহায় লোকজনের চিন্তা করা উচিৎ। বর্তমান সময়ে সবাই বিপদে এক ঘরে ৩জনের নাম না দিয়ে দেখে শুনে দিলে ভালো হতো। এই কথা বলার পর মেম্বার আব্দুল হক অসদাচরণ করেন। তখন উপস্থিত জনতা মেম্বারের অসদাচরণের প্রতিবাদ জানায়।

এ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে উক্ত মেম্বারের সম্মুখেই তার কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত করি। ব্যাপারটা শুনে তিনি রীতিমতো অবাক হন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। এর পরক্ষণেই ওই মেম্বার আমাকে বাড়ি যাওয়ার পথে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল হক বলেন, আমি আমার নিজের ও মা’র নাম দিয়ে ভুল করেছি। ইউএনও স্যার বলেছেন নাম কেটে দিতে আমি কেটে দিয়েছি। আর বাকীদের যাচাই করেন তারা পাওয়ার যোগ্য কিনা।
আর সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি। এটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যনার্জি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ নেওয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ