মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

৮ দফা দাবি নিয়ে ফের মাঠে নামছে ছাত্র অধিকার পরিষদ

আওলাদ হোসেন, মিরপুর প্রতিনিধি

চাকরির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে রাখা, বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়াসহ মোট ৮ দফা দাবিতে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ফেসবুকে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন,বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষ হতে না হতেই সোনার হরিণ চাকরির পেছনে ছুঁটতে হয় শিক্ষিত বেকারদের। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব চাকরিতে আবেদন ফি বাবদ প্রার্থীদের গুণতে হয় শত শত টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজনে লোকবল নিয়োগ দিলেও নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যয়ের ভার বহন করতে হয় শিক্ষিত বেকারদের। রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পাওয়ার জন্যেও উচ্চহারে আবেদন ফি প্রদান করতে হচ্ছে।

আবার ঢাকাতে বেশির ভাগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চাকরি প্রার্থীদের সপ্তাহে সপ্তাহে ঢাকায় আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়াতে গুণতে হয় অনেক টাকা। টাকা না থাকায় অনেকেই আবেদন করতে পারেন না। আবেদন করতে পারলেও ঢাকায় আসতে পারে না টাকার অভাবে। চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে টাকা বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাঁর টাকা আছে, তিনি সব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারছেন। যাঁর নেই, তিনি পারছেন না।

একজন শিক্ষিত বেকার যখন তার বেকারত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের উচিত তার জন্য এগিয়ে আসা। উন্নত বিশ্বে বেকারদের কর্মসংস্থান হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকার তাদের ভাতা দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে ঘটছে উল্টোটা। চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার নামে চলে চাকরিপ্রার্থীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগীতা এতটায় বেপরোয়া যে সরকারি আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের সার্কুলার হরহামেশায় হচ্ছে। বছরের যখন খুশি সরকারের বিবিধ প্রতিষ্ঠান যে যেমন ভাবে পারছে প্যাকেজ সাজিয়ে উচ্চ আবেদন ফি যুক্ত করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে। এভাবে বেকারদের শোষণ করা রীতিমতো অনৈতিক এবং তাঁদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা করা অমানবিক। তাই ছাত্রসমাজের মতামতের ভিত্তিতে ছাত্রসমাজের ৮ টি যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি আমরা।

নিয়োগ সংস্কারে ছাত্র অধিকার পরিষদ এর ৮ দফাঃ
১। চাকরির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে।
২। বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে হবে।
৩। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নাম্বার পৃথকভাবে প্রকাশ করতে হবে।
৪। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ সকল নিয়োগের জন্য পিএসসির আদলে জাতীয় নিয়োগ প্যানেল গঠন করতে হবে।
৫। জাতীয় নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৬। তথ্য যাচাইয়ের নামে অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৭। বেকারত্ব নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
৮। দেশে চাকরিরত বিদেশী নাগরিকদের সংখ্যা কমিয়ে দেশীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ